
সময় নদীর মতো বহমান—নিরবচ্ছিন্ন, নির্লিপ্ত। তবুও এই প্রবহমান সময়ের ভেতর কিছু মানুষ নিজের দীপ্তিতে হয়ে ওঠেন অমলিন, অনিবার্য, অনন্য। কাজী আবুল মনসুর ভাই সেই বিরল প্রজাতির মানুষদের একজন—যাঁর নাম উচ্চারিত হয় সাহস, সততা আর সত্যের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে।
১৬ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন ছিল—একটি দিন, যা ক্যালেন্ডারের গণ্ডি ছাড়িয়ে আমাদের বিবেকের দরজায় নীরব কড়া নাড়ে। হয়তো সেদিন কলম ধরা হয়নি, কিন্তু শ্রদ্ধা তো সময়ের অপেক্ষা করে না; তা হৃদয়ের অন্তস্তলে জেগে থাকে এক নিরবচ্ছিন্ন আলো হয়ে।
চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি যে পথ নির্মাণ করেছেন, তা কেবল একটি সংগঠনের নয়—এটি এক সাহসী যুগের দলিল। যখন চারপাশে ভয়, নীরবতা আর আপসের অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে, তখনও তিনি মাথা নত করেননি। তাঁর কলম থেমে থাকেনি, বরং আরও দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করেছে সত্যের অবিনাশী ভাষা।
কাজী আবুল মনসুর শুধু সংবাদ লিখেননি—তিনি শব্দে শব্দে নির্মাণ করেছেন প্রতিরোধের ইতিহাস। তাঁর প্রতিটি বাক্য যেন প্রতিবাদের মশাল, প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক জ্বালাময়ী ঘোষণা। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি এক দায়, এক প্রতিশ্রুতি, এক নৈতিক সংগ্রাম।
এই বিশেষ উপলক্ষে জানাই তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ভালোবাসা। প্রার্থনা করি—তিনি দীর্ঘজীবী হোন, সুস্থ থাকুন, আর তাঁর কলমের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। তাঁর পথচলা হোক আলোকিত, তাঁর উচ্চারণ হোক আরও শক্তিশালী, আরও প্রভাবশালী।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় মনসুর ভাই—আপনি আছেন বলেই সত্যের পথ এখনো আলোকিত, আর আমাদের কলম এখনো সাহস পায় উচ্চারণ করতে অপ্রিয় সত্য।

মো: কামাল উদ্দিন 

















