
চট্টগ্রামের হালিশহর বারুনীঘাটা এলাকায় নিহত শ্রমিক জাহিদ উদ্দিনের মৃত্যু আত্মহত্যা নয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে রবিবার (৭ জুন) সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাহমুদনগর মুন্সি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সজীব লিখিত বক্তব্যে জানান, তার ছোট ভাই জাহিদ উদ্দিন (২০) চট্টগ্রামের হালিশহর বারুনীঘাটা এলাকার তোহা প্লাস্টিক কারখানায় প্রায় তিন বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কর্মস্থলে কারখানার মালিক পক্ষের লোক মো. মেহেদীর কাছ থেকে জাহিদ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ৫ জুন হালিশহর থানা থেকে তাদের জানানো হয় যে জাহিদ উদ্দিন কারখানার ভেতরে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কারখানার প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনাটি দ্রুত আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও পরিবার মামলা দায়ের করতে গেলে হালিশহর থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি এবং বরং বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয় যুবক সবুজ জানান, তার রেফারেন্সে জাহিদ উদ্দিন ওই কারখানায় কাজ শুরু করেন এবং প্রায় তিন বছর ধরে সততার সঙ্গে কাজ করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বল্প বেতন ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে জাহিদ অন্যত্র কাজের কথা ভাবছিলেন, তবে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন এমন ধারণা তিনি বিশ্বাস করেন না।
তিনি আরও দাবি করেন, একই কারখানা থেকে আগেও কয়েকজন শ্রমিক চলে গেছেন এবং তাদের সঙ্গেও মালিক পক্ষের আচরণ ভালো ছিল না।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।












