
যে মানুষ নিজের ভেতরে আলো ধারণ করে, তার চারপাশে অন্ধকারের ভিড় বাড়তেই থাকে। কারণ আলো শুধু পথ দেখায় না—এটি মুখোশ খুলে দেয়, লুকানো অন্যায়কে উন্মোচিত করে, সুবিধাবাদী শক্তির স্বার্থে আঘাত হানে। আর ঠিক এই কারণেই, চট্টগ্রামের আকাশে যে আলোকবর্তিকা জ্বলে উঠেছিল—অতিরিক্ত আইজিপি ও সিএমপি সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ—তাকে ঘিরে আজ অন্ধকারের এক সুপরিকল্পিত অবরোধ দৃশ্যমান।
চট্টগ্রাম—পাহাড়, নদী, সমুদ্র আর প্রাণচঞ্চল মানুষের এক অনন্য নগরী। এই শহরের ইতিহাসে যেমন বাণিজ্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের কাহিনি। সেই লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আবির্ভাব ঘটে হাসিব আজিজের—একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং একজন পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে।
তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তার সামনে ছিল এক জটিল বাস্তবতা—আইনশৃঙ্খলার নানা চ্যালেঞ্জ, অপরাধচক্রের দাপট, এবং মানুষের মাঝে আস্থার সংকট। কিন্তু তিনি এই বাস্তবতাকে ভয় পাননি; বরং নিজের প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও নৈতিক দৃঢ়তা দিয়ে একে মোকাবিলা করেছেন।
তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম পেয়েছে এমন এক পুলিশিং ব্যবস্থা, যেখানে আইন প্রয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ ছিল না—এটি ছিল একটি নৈতিক অঙ্গীকার। অপরাধ দমনে তিনি যেমন কঠোর ছিলেন, তেমনি সাধারণ মানুষের প্রতি ছিলেন গভীরভাবে সহানুভূতিশীল। থানার দরজা খুলে গেছে মানুষের জন্য, পুলিশ হয়েছে মানুষের আশ্রয়স্থল—এই পরিবর্তন রাতারাতি আসেনি, এটি এসেছে তার নিরলস পরিশ্রম ও সৎ উদ্দেশ্যের ফলস্বরূপ।
বিশেষ করে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানে তার দৃঢ় অবস্থান অনেক প্রভাবশালী চক্রের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। বহু বছর ধরে যারা এই শহরের শিরায় শিরায় বিষ ঢেলে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ছিল তার অন্যতম বড় সাফল্য। অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধী গ্রেপ্তার, এবং অপরাধের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা চট্টগ্রামের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
কিন্তু ইতিহাস বলে—যখনই কোনো সৎ শক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়, তখনই সেই অন্যায় শক্তি পাল্টা আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হয়।
আজ আমরা সেই চিত্রই প্রত্যক্ষ করছি।
চট্টগ্রামের কিছু কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, মাদক ব্যবসায়ী চক্র এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত এক শ্রেণির কুচক্রী মহল—যারা তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে নিজেদের স্বার্থ হারিয়েছে—তারা এখন একযোগে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চরিত্র হননের নোংরা খেলায় নেমেছে তারা—বিভিন্ন নারীর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো জঘন্য ষড়যন্ত্র পর্যন্ত তারা করতে পিছপা হয়নি।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য একজন সৎ কর্মকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা এবং তার অর্জিত সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—
যে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে ত্যাগ করে, রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে, জনগণের জন্য নিজেকে নিবেদন করে—তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কেন?
উত্তরটি সহজ—
কারণ তিনি আপোষ করেননি।
কারণ তিনি অবৈধ সুবিধার কাছে মাথা নত করেননি।
কারণ তিনি ন্যায়ের পথে অটল থেকেছেন।
তার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দীর্ঘদিন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকা। তার পিতা, সাবেক আইজিপি আজিজুল হক সাহেবের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে অতীতে তাকে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু এই বঞ্চনা তাকে দুর্বল করেনি; বরং আরও দৃঢ় করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন—যোগ্যতা, সততা ও পরিশ্রমই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
আজ যখন তার এই দীর্ঘ সংগ্রামের ফলস্বরূপ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই আবারও ষড়যন্ত্রের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে।
কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—
ষড়যন্ত্র সাময়িকভাবে সত্যকে আড়াল করতে পারে, কিন্তু তাকে পরাজিত করতে পারে না।
চট্টগ্রামের মানুষ কোনো বিভ্রান্তিতে নেই। তারা জানে—কে তাদের জন্য কাজ করেছে, কে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, কে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা জানে—হাসিব আজিজ কেবল একজন কর্মকর্তা নন, তিনি একজন অভিভাবক, একজন নির্ভরতার প্রতীক।
এই শহরের প্রতিটি অলিগলি, প্রতিটি উৎসব, প্রতিটি শান্ত সন্ধ্যা—তার কর্মের সাক্ষ্য বহন করে।
আজকের এই প্রেক্ষাপটে আমাদের দায়িত্ব শুধু একজন ব্যক্তিকে সমর্থন করা নয়—আমাদের দায়িত্ব সত্যকে সমর্থন করা, ন্যায়কে সমর্থন করা, এবং সেই সকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, যা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
হাসিব আজিজের গল্প আসলে একটি বৃহত্তর সত্যের গল্প
যেখানে একজন মানুষ সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের নীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখে, এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়।
সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়—
কিন্তু কিছু নাম, কিছু কাজ, কিছু আদর্শ চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।
হাসিব আজিজ সেই চিরস্থায়ী সত্যগুলোর একটি—
যিনি প্রমাণ করেছেন,
আলোকে কখনো পরাজিত করা যায় না—
বরং প্রতিটি অন্ধকার তাকে আরও উজ্জ্বল করে

-মো.কামাল উদ্দিন 






















