০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মনোনীত

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • 64

জান্নাতুল ফেরদৌস (রুমা):

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক, সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের যৌথ স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে তাঁকে এই মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৬৯ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন এবং এর আগেই ১৯৬৪ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতার পূর্বে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রতিষ্ঠিত এবং ভাষা আন্দোলনের নেতা অলি আহাদ সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘ইত্তেহাদ’-এর বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ডেইলি ট্রিবিউনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি এবং দৈনিক নয়াবাংলার সহ-সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৮৪ সালের ১৭ আগস্ট তাঁর সম্পাদনায় চট্টগ্রাম থেকে ‘ইজতিহাদ’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। প্রকাশনার কয়েক মাসের মধ্যেই তৎকালীন এরশাদ সরকার পত্রিকাটির প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে হাইকোর্টে রিট দায়েরের পর আদালতের আদেশে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।

মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম সংবাদপত্র পরিষদ ও চিটাগাং এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, পূর্বাঞ্চলীয় সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ সম্পাদক সমিতির আহ্বায়ক এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিল (ডব্লিউএপিসি)-এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, প্রেস জুডিশিয়াল ও প্রেস রুলস কমিটির সদস্য (২০০২-২০০৬), বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)-এর সহ-সভাপতি (২০০২-২০০৩), বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (১৯৮৮-১৯৯১), চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটি ও জমিয়তুল ফালাহর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর মনোনয়ন সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাংবাদিক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণমাধ্যম বিষয়ক প্রজ্ঞা প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে।

জনপ্রিয়

কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।শিক্ষা মন্ত্রী

প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মনোনীত

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জান্নাতুল ফেরদৌস (রুমা):

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক, সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের যৌথ স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে তাঁকে এই মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৬৯ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন এবং এর আগেই ১৯৬৪ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতার পূর্বে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রতিষ্ঠিত এবং ভাষা আন্দোলনের নেতা অলি আহাদ সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘ইত্তেহাদ’-এর বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ডেইলি ট্রিবিউনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি এবং দৈনিক নয়াবাংলার সহ-সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৮৪ সালের ১৭ আগস্ট তাঁর সম্পাদনায় চট্টগ্রাম থেকে ‘ইজতিহাদ’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। প্রকাশনার কয়েক মাসের মধ্যেই তৎকালীন এরশাদ সরকার পত্রিকাটির প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে হাইকোর্টে রিট দায়েরের পর আদালতের আদেশে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।

মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম সংবাদপত্র পরিষদ ও চিটাগাং এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, পূর্বাঞ্চলীয় সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ সম্পাদক সমিতির আহ্বায়ক এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিল (ডব্লিউএপিসি)-এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, প্রেস জুডিশিয়াল ও প্রেস রুলস কমিটির সদস্য (২০০২-২০০৬), বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)-এর সহ-সভাপতি (২০০২-২০০৩), বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (১৯৮৮-১৯৯১), চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটি ও জমিয়তুল ফালাহর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর মনোনয়ন সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাংবাদিক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণমাধ্যম বিষয়ক প্রজ্ঞা প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে।