০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানিতে আরোপিত শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে শিগগিরই

  • এসটিভি২৪ নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • 35

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বর্তমানে যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে, তা কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন অত্যন্ত আন্তরিক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুল্ক কতটা কমানো হবে, তা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডব্লিউইএফ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বিশেষ দূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্কনীতি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অনেক অবস্থান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধা শিথিল করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, দাভোসে ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহ স্পষ্ট করা হয়েছে এবং তারা এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ইইউর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ বলেও উল্লেখ করেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ইইউ বর্তমানে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবুও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে এবং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বিস্তারিত নোট ও দিকনির্দেশনা রেখে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ও শক্তিশালী অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নতুন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জনপ্রিয়

কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।শিক্ষা মন্ত্রী

বাংলাদেশের রপ্তানিতে আরোপিত শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে শিগগিরই

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বর্তমানে যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে, তা কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন অত্যন্ত আন্তরিক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুল্ক কতটা কমানো হবে, তা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডব্লিউইএফ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বিশেষ দূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্কনীতি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অনেক অবস্থান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধা শিথিল করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, দাভোসে ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহ স্পষ্ট করা হয়েছে এবং তারা এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ইইউর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ বলেও উল্লেখ করেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ইইউ বর্তমানে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবুও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে এবং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বিস্তারিত নোট ও দিকনির্দেশনা রেখে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ও শক্তিশালী অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নতুন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।