
ঢাকা:
পদ্মা সেতুর টোল আদায় ও প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের স্বচ্ছতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আমজনতার দলের সচিব ও ঢাকা-১২ আসনের এমপি প্রার্থী মো. তারেক রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হারে ৩৫ বছরে কিস্তি পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া থমকে আছে কি না—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান জানান, ২০২৪ সালের ২৭ জুন প্রকল্পের ৭ম ও ৮ম কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন কোনো কিস্তি পরিশোধ হয়েছে কি না—সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে—২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রায় ৬৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৪টি যানবাহন চলাচল করেছে। এ সময়ে সেতু থেকে মোট ৮৬৮ কোটি ৮৭ লাখ ২ হাজার ৫৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ টোলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কেন ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই—এ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সংগৃহীত প্রায় ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক অনুদান, সরকারি কর্মচারীদের দুই দিনের বেতন এবং টিএসসিতে সমন্বয়কদের সংগৃহীত অর্থ যথাসময়ে ফেনী ও নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছেছে কি না—সেই বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। এসব অর্থের সঠিক বণ্টন ও তদারকি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশ সফরের প্রস্তুতি নিয়েও পোস্টে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, উন্নত দেশের ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে কিছু উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছেড়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে হঠাৎ সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার এই তৎপরতা এবং দেশত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।




















