০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • 44

স্টাফ রির্পোটার : 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, সরকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের হারানো জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, সেন্ট মার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক এবং দ্বীপ ও পর্যটন ব্যবসাকে একাকার করে দেখার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে আয়োজিত মহাপরিকল্পনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, দ্বীপের সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার হলেও একই সঙ্গে দ্বীপবাসীর জন্য বিকল্প ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মাত্র আট হাজার মানুষের এই দ্বীপে যদি প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটক আসে, তাহলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পর্যটন অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।’ তিনি জানান, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে। হস্তশিল্প, মাছ ধরা এবং নিয়ন্ত্রিত পর্যটন দ্বীপবাসীর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) চারটি জোন করার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম কর্মশালায় জোনভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত জোনগুলো হলো—
প্রথমত, জেনারেল ইউজ জোন, যেখানে পর্যটন ও সাধারণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলবে এবং সব হোটেল ও রিসোর্ট অবস্থান করবে।
দ্বিতীয়ত, ম্যানেজড রিসোর্স জোন, যেখানে কচ্ছপের প্রজনন হয়। এ এলাকায় দিনে পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, তবে রাতে থাকার অনুমতি থাকবে না এবং স্থানীয়দের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তৃতীয়ত, সাসটেইনেবল ইউজ জোন, যেখানে বুশল্যান্ড, লেগুন ও ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। এখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী টেকসই ব্যবস্থাপনায় সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে, তবে পর্যটকরা শুধু দিনে প্রবেশ করতে পারবেন।
চতুর্থত, রেস্ট্রিক্টেড জোন, যেখানে জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

কর্মশালায় পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ বলেন, সেন্ট মার্টিন রক্ষায় একটি টেকসই ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং দ্বীপের ক্ষতি করার কোনো অধিকার কারো নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ধীরে ধীরে ফিরে আসছে এবং প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দায়ারত্নে বলেন, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সেন্ট মার্টিনের সংরক্ষণ পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে পেরে তারা আনন্দিত। তিনি সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে সাংবাদিক লাঞ্ছিত ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রির্পোটার : 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, সরকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের হারানো জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, সেন্ট মার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক এবং দ্বীপ ও পর্যটন ব্যবসাকে একাকার করে দেখার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে আয়োজিত মহাপরিকল্পনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, দ্বীপের সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার হলেও একই সঙ্গে দ্বীপবাসীর জন্য বিকল্প ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মাত্র আট হাজার মানুষের এই দ্বীপে যদি প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটক আসে, তাহলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই পর্যটন অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।’ তিনি জানান, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে। হস্তশিল্প, মাছ ধরা এবং নিয়ন্ত্রিত পর্যটন দ্বীপবাসীর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) চারটি জোন করার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম কর্মশালায় জোনভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত জোনগুলো হলো—
প্রথমত, জেনারেল ইউজ জোন, যেখানে পর্যটন ও সাধারণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলবে এবং সব হোটেল ও রিসোর্ট অবস্থান করবে।
দ্বিতীয়ত, ম্যানেজড রিসোর্স জোন, যেখানে কচ্ছপের প্রজনন হয়। এ এলাকায় দিনে পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, তবে রাতে থাকার অনুমতি থাকবে না এবং স্থানীয়দের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তৃতীয়ত, সাসটেইনেবল ইউজ জোন, যেখানে বুশল্যান্ড, লেগুন ও ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। এখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী টেকসই ব্যবস্থাপনায় সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে, তবে পর্যটকরা শুধু দিনে প্রবেশ করতে পারবেন।
চতুর্থত, রেস্ট্রিক্টেড জোন, যেখানে জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

কর্মশালায় পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ বলেন, সেন্ট মার্টিন রক্ষায় একটি টেকসই ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং দ্বীপের ক্ষতি করার কোনো অধিকার কারো নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ধীরে ধীরে ফিরে আসছে এবং প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দায়ারত্নে বলেন, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ সেন্ট মার্টিনের সংরক্ষণ পরিকল্পনায় সহযোগিতা করতে পেরে তারা আনন্দিত। তিনি সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।