
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান চানখারপুলে ছয়জন হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর দেওয়া রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজনৈতিক সংগঠন জুলাই ঐক্য। একইসঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল ও ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের গেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চানখারপুলে সংঘটিত ছয়জন হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তা ইমরুলকে ছয় বছর এবং শাহবাগ থানার সাবেক ওসি এরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইসরাফিল ফরাজী বলেন, প্রাথমিকভাবে এই রায়কে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি দাবি করেন, এই রায় স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট। তার ভাষায়, “যারা দেশে অনুপস্থিত, মূলত তাদেরই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আর যারা কারাবন্দি রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে।”
এই প্রেক্ষাপটে জুলাই ঐক্য উক্ত রায় প্রত্যাখ্যান করছে এবং ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাছে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয়। জুলাই ঐক্যের অভিযোগ, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইন উপেক্ষা করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ প্রচলিত আইনে তাদের প্রার্থিতা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
ইসরাফিল ফরাজী বলেন, “যারা রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট করেছে, তারাই আজ জনগণের ভোট চাইছে—এটি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন মুখে ইনসাফের কথা বললেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মন জয়ে ব্যস্ত।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে সেখানে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদেরও বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসরাফিল ফরাজী বলেন, নির্বাচন কমিশন গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

স্টাফ রির্পোটার: 

















