০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২২ বছর পর সিলেটে তারেক রহমান

শাহজালাল–শাহপরাণের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু নির্বাচনি প্রচার

  • এসটিভি২৪ নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • 23

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২২ বছর পর সিলেট সফরে যাচ্ছেন। মায়ের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন।

এর আগে সর্বশেষ তিনি সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে সিলেট সফর করেছিলেন, সে সময় তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। তখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করতেন। সেই পথ অনুসরণ করেই এবার সিলেট থেকে প্রচার শুরু করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন তিনি সিলেট হয়ে ঢাকায় এলেও দলীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের জমায়েত না হওয়ায় সিলেটবাসীর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি। অবশেষে ২২ বছর পর সিলেটবাসীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যানের।

জেলা বিএনপির নেতারা জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। রাতেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করবেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই তার নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জেও পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে তারেক রহমানের ছবি সংবলিত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সেজেছে পুরো নগরী। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুনে। সেখানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য এবার ধরে রাখছেন তারেক রহমান।

সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ না হলেও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে মাঠে নামানো হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জনসভা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।

জনপ্রিয়

সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা। সভাপতি কামালসাধারণ সম্পাদক জিয়া

২২ বছর পর সিলেটে তারেক রহমান

শাহজালাল–শাহপরাণের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু নির্বাচনি প্রচার

প্রকাশের সময় : ০৬:৩০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২২ বছর পর সিলেট সফরে যাচ্ছেন। মায়ের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন।

এর আগে সর্বশেষ তিনি সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে সিলেট সফর করেছিলেন, সে সময় তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। তখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করতেন। সেই পথ অনুসরণ করেই এবার সিলেট থেকে প্রচার শুরু করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন তিনি সিলেট হয়ে ঢাকায় এলেও দলীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের জমায়েত না হওয়ায় সিলেটবাসীর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি। অবশেষে ২২ বছর পর সিলেটবাসীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যানের।

জেলা বিএনপির নেতারা জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। রাতেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করবেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই তার নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জেও পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে তারেক রহমানের ছবি সংবলিত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সেজেছে পুরো নগরী। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুনে। সেখানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য এবার ধরে রাখছেন তারেক রহমান।

সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ না হলেও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে মাঠে নামানো হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জনসভা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।