০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাট,ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের মা

ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই গৃহবধূ।

গৃহবধুর দাবি,দীর্ঘদিন থেকো সিয়াম নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সিয়াম অন্যত্র বিয়ে করবেন এমন খবর শুনে ওই গৃহবধূ প্রেমিক সিয়ামের বাড়ির গেটে অবস্থান নিয়েছেন। তার আগে সিয়াম পাশের ইউনিয়নে বিয়ে করতে গিয়েছেন ও বিয়ে করেছেন।
সিয়ামের বাড়িতে ওই গৃহবধূর উপস্থিত হলে বাড়িতে তালা লাগিয়ে সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। স্থানীয়ভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার
চেষ্টাও করছেন ।

বিয়ে দাবিতে অনশনে বসা সাবিনা ইয়াসমিন ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী বলে জানা গেছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিবের ছেলে। মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে মরহুম মোজা ব্যাপারীর নাতি তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সাবিনা ইয়াসমিনের আরো জানান, তিনি প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে স্বামী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন আমার প্রতিবেশী একজন তাকে ঘরে দেখে ফেলেন৷ তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে পাশের ইউনিয়ন মেয়ের বাড়িতে গেছে। এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।

তবে সাবিনা ইয়াসমিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিয়ামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরো শুনেছি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, মিলেছে অনলাইন প্রতারণার সরঞ্জাম

জয়পুরহাট,ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের মা

প্রকাশের সময় : ০৪:৫১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষেতলালে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই গৃহবধূ।

গৃহবধুর দাবি,দীর্ঘদিন থেকো সিয়াম নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সিয়াম অন্যত্র বিয়ে করবেন এমন খবর শুনে ওই গৃহবধূ প্রেমিক সিয়ামের বাড়ির গেটে অবস্থান নিয়েছেন। তার আগে সিয়াম পাশের ইউনিয়নে বিয়ে করতে গিয়েছেন ও বিয়ে করেছেন।
সিয়ামের বাড়িতে ওই গৃহবধূর উপস্থিত হলে বাড়িতে তালা লাগিয়ে সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। স্থানীয়ভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার
চেষ্টাও করছেন ।

বিয়ে দাবিতে অনশনে বসা সাবিনা ইয়াসমিন ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী বলে জানা গেছে৷

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিবের ছেলে। মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে মরহুম মোজা ব্যাপারীর নাতি তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সাবিনা ইয়াসমিনের আরো জানান, তিনি প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে স্বামী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন আমার প্রতিবেশী একজন তাকে ঘরে দেখে ফেলেন৷ তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে পাশের ইউনিয়ন মেয়ের বাড়িতে গেছে। এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।

তবে সাবিনা ইয়াসমিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিয়ামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরো শুনেছি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।