১২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, মিলেছে অনলাইন প্রতারণার সরঞ্জাম

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 13

বাড়ির মালিকদের নিয়েও স্থানীয়দের সন্দেহ।এলাকাবাসীর অভিযোগ বাড়িওয়ালা সবই জানে।

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দেশীয় ও বিদেশি কয়েকজন সহযোগী লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন বলেও পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলছে।

অভিযানে যা উদ্ধার

অভিযানকালে ১৩৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, একটি Apple ট্যাব, ৫৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, একটি CPU, একটি Samsung মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি Cambodian Employment Card উদ্ধার করা হয়েছে।

বাড়ির মালিকদের নিয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন

এদিকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে একটি ভাড়া বাসা থেকে একসঙ্গে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, এতসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে একটি বাড়িতে অবস্থান করে কথিত অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিষয়টি বাড়ির মালিকদের নজরে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ বাড়ির মালিকদের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে পশ্চিম খুলশীর ৩ নম্বর রোডের মো. মামুন এবং কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা আক্কাস আলীর নাম বাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে তাদের ভূমিকা বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাড়ির মালিকদের সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করলেও বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহ বা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তে বাড়ির মালিক, স্থানীয় সহযোগী কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, মিলেছে অনলাইন প্রতারণার সরঞ্জাম

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, মিলেছে অনলাইন প্রতারণার সরঞ্জাম

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাড়ির মালিকদের নিয়েও স্থানীয়দের সন্দেহ।এলাকাবাসীর অভিযোগ বাড়িওয়ালা সবই জানে।

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দেশীয় ও বিদেশি কয়েকজন সহযোগী লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন বলেও পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলছে।

অভিযানে যা উদ্ধার

অভিযানকালে ১৩৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, একটি Apple ট্যাব, ৫৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, একটি CPU, একটি Samsung মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি Cambodian Employment Card উদ্ধার করা হয়েছে।

বাড়ির মালিকদের নিয়েও স্থানীয়দের প্রশ্ন

এদিকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে একটি ভাড়া বাসা থেকে একসঙ্গে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, এতসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে একটি বাড়িতে অবস্থান করে কথিত অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিষয়টি বাড়ির মালিকদের নজরে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ বাড়ির মালিকদের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে পশ্চিম খুলশীর ৩ নম্বর রোডের মো. মামুন এবং কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা আক্কাস আলীর নাম বাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে তাদের ভূমিকা বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাড়ির মালিকদের সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করলেও বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহ বা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তে বাড়ির মালিক, স্থানীয় সহযোগী কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।