০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলশীতে ওসি আবদুর রহিমের কঠোর অবস্থান, কোনঠাসা ‘বগা’ বাহিনী

  • প্রকাশের সময় : ১১:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 12

 

চট্টগ্রাম নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড খুলশী। নগরের অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় নানা কারণে বেশ আলোচিত এই এলাকা। বিশেষ করে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে ওয়ার্ডটি। আর এসব অভিযোগের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার নাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গণমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও থামেনি তার কথিত তৎপরতা। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় তার ও তার অনুসারীদের দাপটে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে গত আগস্টে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে আবদুর রহিম দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে খুলশী থানা পুলিশ। এতে এলাকায় অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে কথিত মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও বগার অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে বগার অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসা বগাকে গ্রেপ্তারে এর আগে খুলশী থানায় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অনেকটা প্রকাশ্যেই এলাকায় চলাফেরা করতেন।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বিভিন্ন সময় পুলিশ এসেছে, কর্মকর্তারা বদলি হয়েছেন; কিন্তু বগাকে নিয়ে মানুষের ভয় কাটেনি। এবার পুলিশ সরাসরি অভিযান চালানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি আবদুর রহিম দায়িত্ব নেওয়ার পর খুলশী এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

এদিকে গত ৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পাহাড়তলী কলেজের অধ্যক্ষের পাশাপাশি ওয়াকিল হোসেন বগাকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলাটি নিয়ে তাদের অভিযোগ, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, মামলা গ্রহণের আগে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা দুই দিন ধরে তদন্ত করে মামলা গ্রহণ করেছি। আইনের রীতিনীতি মেনেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত খুলশীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন নিয়মিত ও নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা অভিযান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

তাদের প্রত্যাশা, ওসি আবদুর রহিমের নেতৃত্বে শুরু হওয়া মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বগাসহ যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, মিলেছে অনলাইন প্রতারণার সরঞ্জাম

খুলশীতে ওসি আবদুর রহিমের কঠোর অবস্থান, কোনঠাসা ‘বগা’ বাহিনী

প্রকাশের সময় : ১১:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

চট্টগ্রাম নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড খুলশী। নগরের অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় নানা কারণে বেশ আলোচিত এই এলাকা। বিশেষ করে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে ওয়ার্ডটি। আর এসব অভিযোগের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার নাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গণমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও থামেনি তার কথিত তৎপরতা। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় তার ও তার অনুসারীদের দাপটে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে গত আগস্টে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে আবদুর রহিম দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে খুলশী থানা পুলিশ। এতে এলাকায় অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে কথিত মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও বগার অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে বগার অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসা বগাকে গ্রেপ্তারে এর আগে খুলশী থানায় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অনেকটা প্রকাশ্যেই এলাকায় চলাফেরা করতেন।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বিভিন্ন সময় পুলিশ এসেছে, কর্মকর্তারা বদলি হয়েছেন; কিন্তু বগাকে নিয়ে মানুষের ভয় কাটেনি। এবার পুলিশ সরাসরি অভিযান চালানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি আবদুর রহিম দায়িত্ব নেওয়ার পর খুলশী এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

এদিকে গত ৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পাহাড়তলী কলেজের অধ্যক্ষের পাশাপাশি ওয়াকিল হোসেন বগাকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলাটি নিয়ে তাদের অভিযোগ, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, মামলা গ্রহণের আগে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা দুই দিন ধরে তদন্ত করে মামলা গ্রহণ করেছি। আইনের রীতিনীতি মেনেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত খুলশীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন নিয়মিত ও নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা অভিযান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

তাদের প্রত্যাশা, ওসি আবদুর রহিমের নেতৃত্বে শুরু হওয়া মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বগাসহ যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।