
“আমার অতি আদরের কলিজার টুকরা নাওয়াল আনসারী চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী। অদ্য সকাল ০৮:০০ ঘটিকায় আমি নিজেই আমার এই ছোট্ট অতি আদরের মেয়েটিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসলাম।ক্লাশ শেষ করে বেলা অনুমান ১৩:৩০ ঘটিকার সময় টেক্সি যোগে স্কুল থেকে ঠিক বাসার মেইন গেইটের সামনে আসার পর গাড়ি থেকে নামা মাত্রই হঠাৎ বিদ্যুৎ চালিত একটি অবৈধ ও রেজিষ্ট্রেশন বিহীন অটো রিক্সা দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে আমার অবুঝ মেয়েটাকে সজোরে ধাক্কা দিলে আমার ছোট্ট মেয়েটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।এতে আমার মেয়ে দুই হাতে, মাথায়, ঠোঁটে, পুরো মুখ মন্ডল সহ কপালে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত এবং থেতলানো জখম প্রাপ্ত হয়।আমার মেয়েটাকে সাথে সাথে এলাকাবাসীর সহায়তায় রয়েল হাসপাতালে এবং মেট্রোপলিটন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, আমার এই মাছুম বাচ্চাটা তো কোন অপরাধ করে নাই।আমার এই বাচ্চাটি যদি নিজের বাসার নিচেও নিরাপদ না থাকে তাহলে আমার অথবা আমাদের এইরকম মাছুম বাচ্চারা অন্য কোথাও নিরাপদ বলে আমার মনে হয় না।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সম্মানিত প্রত্যেক সদস্যদের নিকট আমার প্রশ্ন ” বাংলাদেশ নামক এই পুরো দেশটাই কি তাইলে অবৈধ অটো রিক্সা চালকদের কাছেই জিম্মি হয়ে থাকবে? দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করার বিধান এবং নিয়ম থাকলেও প্রশিক্ষণ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন এই অবৈধ অটো রিক্সা চালকদের বিরুদ্ধে কি দেশের প্রচলিত কোন আইনই প্রযোজ্য নয়?এই অবৈধ অটো রিক্সার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বিহীন কথিত রিক্সা চালকেরা আর কত মায়ের বুক খালি করলে এবং আর কত অবুঝ বাচ্চাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলে তাদের উপরও দেশের প্রচলিত আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত আসবে “?
আমি এইসব অবৈধ অটো রিক্সা ও রিক্সা চালকদের বিষয়ে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় , মাননীয় সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয় সহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর মাননীয় মেয়র মহোদয় এর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।অন্যথায় এই অটো রিক্সা চালকেরাই একদিন এই পুরো দেশটাকেই গিলে খাবে।
সরকারী চাকরি করে নিজের অবুঝ সন্তানদের নিরাপত্তা যেখানে আমরা নিশ্চিত করতে পারিনা সেখানে আমরা কিভাবে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এটাই আমার প্রশ্ন।”
আনসারুল করিম
পুলিশ কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম।
–সংগ্রহীত

বিবি কুলসুম 


















