০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানে সরকার পতনের আন্দোলন তীব্র

দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাজ্য, নাগরিকদের ভ্রমণ সতর্কতা

ইরানে চলমান সরকার পতনের আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ইরানে ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। তার আগ পর্যন্ত দূরবর্তী স্থান থেকে সীমিত আকারে দূতাবাস পরিচালিত হবে।

এদিকে ভ্রমণ সতর্কবার্তায় ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আপাতত কোনো ব্রিটিশ নাগরিক যেন ইরানে ভ্রমণ না করেন। যারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে, নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক আকারে সরকার পতনের আন্দোলন চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, আন্দোলনের তীব্রতাও তত বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে দেশজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

এই গণআন্দোলনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫—অর্থাৎ এক ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০ লাখ রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই বিপর্যয়ের কারণে ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

পরবর্তীতে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেন এবং কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। সরকার পতনের দাবির পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দাবিও ওঠে বিক্ষোভ থেকে।

এর জবাবে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেয়। তেহরান সরকারের দাবি, এই আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষ থেকেও ইরানের এই বিক্ষোভে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার দাবি, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

জনপ্রিয়

সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা। সভাপতি কামালসাধারণ সম্পাদক জিয়া

ইরানে সরকার পতনের আন্দোলন তীব্র

দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাজ্য, নাগরিকদের ভ্রমণ সতর্কতা

প্রকাশের সময় : ০৬:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকার পতনের আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ইরানে ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। তার আগ পর্যন্ত দূরবর্তী স্থান থেকে সীমিত আকারে দূতাবাস পরিচালিত হবে।

এদিকে ভ্রমণ সতর্কবার্তায় ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আপাতত কোনো ব্রিটিশ নাগরিক যেন ইরানে ভ্রমণ না করেন। যারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে, নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক আকারে সরকার পতনের আন্দোলন চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, আন্দোলনের তীব্রতাও তত বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে দেশজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

এই গণআন্দোলনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫—অর্থাৎ এক ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০ লাখ রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই বিপর্যয়ের কারণে ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

পরবর্তীতে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেন এবং কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। সরকার পতনের দাবির পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দাবিও ওঠে বিক্ষোভ থেকে।

এর জবাবে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেয়। তেহরান সরকারের দাবি, এই আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষ থেকেও ইরানের এই বিক্ষোভে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার দাবি, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।