০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়ার তেল-ইউরেনিয়াম ক্রেতাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত

  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • 37

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’কে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়েছেন তিনি।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক—উভয় দলের সমর্থনে প্রণীত এই ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’ কার্যকর হলে বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রিচার্ড ব্লুমেনথালের উত্থাপিত এই বিলে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যারা জেনেবুঝে রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কিনবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। পাশাপাশি ওই দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর আকাশচুম্বী শুল্ক বসানোর ক্ষমতাও থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতে।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য মূলত মস্কোর অর্থনৈতিক জোগান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, ইউক্রেন যখন শান্তির স্বার্থে ছাড় দিচ্ছে, তখন পুতিনকে দমাতে এই কঠোর অবস্থানের বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি পাস হলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়বে ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার তেল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। নতুন আইনে সেই শুল্ক ৫০০ শতাংশে উন্নীত হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি মার্কিন সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাশিয়ার সরাসরি ক্ষতি নয়, বরং তাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এখন হোয়াইট হাউসের প্রধান কৌশল।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু তেল নয়, রাশিয়ার ইউরেনিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোকেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি বিশ্বজুড়ে নতুন এক অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

জনপ্রিয়

কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।শিক্ষা মন্ত্রী

রাশিয়ার তেল-ইউরেনিয়াম ক্রেতাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত

প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’কে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়েছেন তিনি।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক—উভয় দলের সমর্থনে প্রণীত এই ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’ কার্যকর হলে বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রিচার্ড ব্লুমেনথালের উত্থাপিত এই বিলে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যারা জেনেবুঝে রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কিনবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। পাশাপাশি ওই দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর আকাশচুম্বী শুল্ক বসানোর ক্ষমতাও থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতে।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য মূলত মস্কোর অর্থনৈতিক জোগান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, ইউক্রেন যখন শান্তির স্বার্থে ছাড় দিচ্ছে, তখন পুতিনকে দমাতে এই কঠোর অবস্থানের বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি পাস হলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়বে ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার তেল আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। নতুন আইনে সেই শুল্ক ৫০০ শতাংশে উন্নীত হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি মার্কিন সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাশিয়ার সরাসরি ক্ষতি নয়, বরং তাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এখন হোয়াইট হাউসের প্রধান কৌশল।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু তেল নয়, রাশিয়ার ইউরেনিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোকেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি বিশ্বজুড়ে নতুন এক অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে পারে।