০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘রেড লাইন’ ঘোষণা আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর, আন্দোলন দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি

  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • 42

আন্তর্জাতিক ডেক্স:

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ গত বুধবার থেকে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে এখন সরাসরি সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে রাজপথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে স্লোগান— ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’

এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পৃথক বিবৃতিতে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতির যে কোনো প্রচেষ্টার জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইআরজিসির ভাষায়, “রাষ্ট্র ও বিপ্লবের নিরাপত্তাই এখন আমাদের রেড লাইন।”

পৃথক এক বার্তায় ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জানবাজ লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে।

বছরের পর বছর ধরে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, ইরানি রিয়েলের ভয়াবহ দরপতন এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। মাত্র ১৩ দিনের মধ্যেই তা দেশের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ দমাতে সরকার গতকাল থেকেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসছে বড় ধরনের সামরিক হুমকির বার্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে চারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি কঠোরভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে যেতে দ্বিধা করবে না।

একদিকে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির ‘রেড লাইন’ ঘোষণা, অন্যদিকে মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ইরান এখন চরম অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয়

সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা। সভাপতি কামালসাধারণ সম্পাদক জিয়া

‘রেড লাইন’ ঘোষণা আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর, আন্দোলন দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেক্স:

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ গত বুধবার থেকে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে এখন সরাসরি সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে রাজপথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে স্লোগান— ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’

এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পৃথক বিবৃতিতে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতির যে কোনো প্রচেষ্টার জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইআরজিসির ভাষায়, “রাষ্ট্র ও বিপ্লবের নিরাপত্তাই এখন আমাদের রেড লাইন।”

পৃথক এক বার্তায় ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জানবাজ লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে।

বছরের পর বছর ধরে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, ইরানি রিয়েলের ভয়াবহ দরপতন এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। মাত্র ১৩ দিনের মধ্যেই তা দেশের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ দমাতে সরকার গতকাল থেকেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসছে বড় ধরনের সামরিক হুমকির বার্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে চারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি কঠোরভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে যেতে দ্বিধা করবে না।

একদিকে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির ‘রেড লাইন’ ঘোষণা, অন্যদিকে মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ইরান এখন চরম অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।