০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ৮৮ ভিন্নমতাবলম্বী মুক্তির ঘোষণা, ট্রাম্পের চাপের মধ্যেই পদক্ষেপ

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • 38

স্টাফ রিপোর্টার: 

ভেনেজুয়েলা সরকার বৃহস্পতিবার ৮৮ জন ভিন্নমতাবলম্বীকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর বিজয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তারা আটক ছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০২৪ সালের ওই নির্বাচনে বিরোধী দল নিরঙ্কুশ বিজয়ের দাবি করলেও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এর পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন নিহত হন এবং দমন-পীড়নের মুখে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার কারা মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার মুক্তি পাওয়া ৮৮ জন ‘চরমপন্থী গোষ্ঠীর সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন। এর আগে দুটি মানবাধিকার সংগঠনও অন্তত ৮৭ জন বন্দির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এটি এক সপ্তাহের মধ্যে মাদুরো সরকারের দ্বিতীয় বড় মুক্তির পদক্ষেপ। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর ‘শান্তি, সংলাপ ও ন্যায়বিচারের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকার’ উল্লেখ করে ৯৯ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযানের হুমকির মুখে পড়ে মাদুরো প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনেছেন।

গত আগস্ট থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যারিবীয় সাগরে বড় নৌবহর মোতায়েন, মাদকবাহী সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানে হামলা, তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ এবং ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

এ সপ্তাহেই ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যা চলমান অভিযানের প্রথম স্থলভিত্তিক সামরিক হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মতে, হামলাটি মারাকাইবো বন্দরের একটি কোকেন উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

তবে ভেনেজুয়েলা সরকার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, দেশটির বিপুল তেল সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বামপন্থী মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নিকোলাস মাদুরোর স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোই হবে তার জন্য ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত’।

জনপ্রিয়

সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের বিভাগীয় সম্মেলনে প্রবীণ নেতা কাদেরী

ভেনেজুয়েলায় ৮৮ ভিন্নমতাবলম্বী মুক্তির ঘোষণা, ট্রাম্পের চাপের মধ্যেই পদক্ষেপ

প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: 

ভেনেজুয়েলা সরকার বৃহস্পতিবার ৮৮ জন ভিন্নমতাবলম্বীকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর বিজয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তারা আটক ছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০২৪ সালের ওই নির্বাচনে বিরোধী দল নিরঙ্কুশ বিজয়ের দাবি করলেও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এর পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন নিহত হন এবং দমন-পীড়নের মুখে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার কারা মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার মুক্তি পাওয়া ৮৮ জন ‘চরমপন্থী গোষ্ঠীর সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন। এর আগে দুটি মানবাধিকার সংগঠনও অন্তত ৮৭ জন বন্দির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এটি এক সপ্তাহের মধ্যে মাদুরো সরকারের দ্বিতীয় বড় মুক্তির পদক্ষেপ। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর ‘শান্তি, সংলাপ ও ন্যায়বিচারের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকার’ উল্লেখ করে ৯৯ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযানের হুমকির মুখে পড়ে মাদুরো প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনেছেন।

গত আগস্ট থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যারিবীয় সাগরে বড় নৌবহর মোতায়েন, মাদকবাহী সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানে হামলা, তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ এবং ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

এ সপ্তাহেই ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যা চলমান অভিযানের প্রথম স্থলভিত্তিক সামরিক হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মতে, হামলাটি মারাকাইবো বন্দরের একটি কোকেন উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

তবে ভেনেজুয়েলা সরকার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, দেশটির বিপুল তেল সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বামপন্থী মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নিকোলাস মাদুরোর স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোই হবে তার জন্য ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত’।