
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ ও তেলবাহী ট্যাংকার জব্দকে কেন্দ্র করে যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন উপকূলে শুরু হয়েছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের সম্মিলিত নৌ মহড়া। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চীনের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই সপ্তাহব্যাপী মহড়াকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন্স টাউন নৌঘাঁটিতে তিন দেশের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে অবস্থান নিয়েছে। ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে এই সামরিক উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন শক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বার্তাসংস্থা এপি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের আওতায় এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের অনুশীলনই এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এটি বেইজিং, মস্কো ও তেহরানের একটি সমন্বিত সামরিক ও রাজনৈতিক বার্তা।
মহড়ায় চীনের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছে ১৬১ মিটার দীর্ঘ শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার ‘তাংশান’। রাশিয়া তাদের বাল্টিক ফ্লিট থেকে পাঠিয়েছে যুদ্ধজাহাজ ‘স্তোইকি’ এবং একটি রসদ সরবরাহকারী ট্যাংকার। ২০২৪ সালে ব্রিকস জোটে যোগ দেওয়া ইরানও এই মহড়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে।
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে প্রধান নৌঘাঁটিতে রুশ ও ইরানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সেই নিরপেক্ষতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই মহড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এর আগে এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘অশুভ শক্তির সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশটিতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং অতীতে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ জাহাজকে অস্ত্র পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
রুশ ও ইরানি যুদ্ধজাহাজকে আতিথেয়তা দেওয়ার ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোট সরকারের অভ্যন্তরেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রাশিয়া ও ইরানকে নিয়ে এমন সামরিক মহড়া মূলত একটি রাজনৈতিক কৌশল। তাদের মতে, ব্রিকস সহযোগিতার আড়ালে সরকার বিতর্কিত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
























